দ্বিতীয় অনুভূত মিরাকেল

আজ ল্যাবে যাইনি। কাজেই সারাদিনের জন্যে দুম করেই ফ্রী হয়ে গেলাম। কি করা যায়? ছোট দুই ভাইই বাসায় ছিলো। আম্মু সহ আমরা চারজন বসে বসে ব্যাপক আড্ডা দিচ্ছিলাম। আড্ডার মাঝেই বললাম, আমি সুরা কাফিরূন ঠিক মতো পারিনা। খালি গন্ডগোল হয়। ওকে তাহলে! ট্রাই করা যাক শেখার। ‘উদু করে এসে মুখে মুখে বলতে বলতে, ভূলের সাথে হাসতে হাসতে সুরা কাফিরূন শিখে ফেললাম দুই ভাই। কি আনন্দ! সাথে সাথেই বললাম, “চল, আজ আরেকটা সূরা শিখে ফেলি।” সূরা আল ইনশিরাহকে টার্গেট করলাম।  তারপরেই, অসাধারণ ঘটনাটা ঘটলো।

প্রথম চার আয়াত শিখতে দুইজনের অবস্থা পুরাই কাহিল। পড়ি আর শুনি, শুনি আর পড়ি। তারপর মুখস্থ বলতে গেলেই একজনের ভূল দেখে আরেকজন “হিহিহিহিঃ হুহুহুহুঃ” করতে করতে শেষ। বারবার এক শব্দের জায়গায় আরেক শব্দ ঢুকিয়ে দিচ্ছিলাম আমি। কি করা যায়? বুদ্ধি বের করলাম, “চল, প্রতিটা শব্দের অর্থ সহ শিখে শিখে পড়ি, তাহলে ইজী হবে হয়তো।” কাগজ পেন্সিল নিয়ে বসে গেলাম। আমার এন্ড্রয়েডে Quran Tafsir Pro নামে অসাধারণ একটা ফ্রী অ্যাপ আছে। ওখানে শব্দের মিনিং দেখা যায়, গ্রামার দেখা যায়, পুরা আয়াতের অর্থ আর সংক্ষিপ্ত তাফসীরও পড়ে ফেলা যায়। ওটা থেকে দেখে দেখে মীনিং গুলো লিখলাম, শিখলাম। প্রথম চারটা আয়াত আস্তে আস্তে শিখা হয়ে গেলো। আর ভূল হয়না, আটকায় না। আহ! এরপর পঞ্চম আয়াত পড়তেই দু’জন সেইরকম খুশি হয়ে গেলাম। কেন?

inshirah

পঞ্চম আর ষষ্ঠ আয়াত অদ্ভূত রকমের সহজ, আর একটা অক্ষর ছাড়া দুইটা আয়াতই হুবহু একইরকম। একদম সহজেই অর্থ পড়া ছাড়াই এক মিনিটেই দুইটা আয়াত মুখস্থ হয়ে গেলো। আমাদের আনন্দ দেখে কে? মীনিং পড়তে গেলাম। ছোট ভাই অর্থ পড়েই বললো,

-ভাইয়া, একটা জিনিস খেয়াল করসেন?

-কি জিনিস?

-এই আয়াতে আমাদের আল্লাহ কি বলসেন দেখেন।

বলসেন,

“So truly where there is hardship there is also ease;

 Truly where there is hardship there is also ease.”

 

খেয়াল করে দেখেন প্রথম চারটা আয়াত পড়তে আমাদের কত কষ্ট হইসে। পুরাই খবর হয়ে গেসে। অথচ এই দুইটা আয়াত পড়তে একটুও কষ্ট হয়নাই, উল্টা খুব সহজে শিখা হই গেসে। এত সহজে দুই দুইটা আয়াত শিখা হই যাওয়ায় ভিতরে কিরকম একটা শান্তি শান্তি লাগতেসেনা?

-আসলেই তো! এমনকি আয়াত দুইটার মীনিং এর সাথে আয়াতটার ডিজাইনও এমনভাবে করা হইসে যে প্রথম চার আয়াত মুখস্থের কষ্টের পর এই দুই আয়াত পড়লে অটোমেটিক একটা শান্তি চলে আসে। বুকের ভেতরে একটা স্বস্তি কাজ করে।

ঐ মূহুর্তটা এত অদ্ভূত আর অসাধারণ অনুভূতিতে ভরে ছিলো যে দুই ভাই একজন আরেকজনের দিকে শুধু একগাল হেসে হেসে বারবার তাকাচ্ছিলাম 😀 কিছু কিছু অসাধারণ ব্যাপার, অসাধারণ অনুভূতি পাওয়া শুধুমাত্র কুরআনের মাধ্যমেই সম্ভব।

Advertisements

About মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

আমি মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর। একাডেমিক পরিচয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন বায়োটেকনোলজিস্ট। আগ্রহ বিজ্ঞানে এবং গবেষণায়। তারচেয়েও বেশি পড়ানোয়। নৈতিক এবং আদর্শিক জীবনে একজন মনেপ্রাণে মুসলিম। নাস্তিকতা ছেড়ে আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতা’আলার অশেষ করুণা আর দয়ায় ইসলামের আলো চিনে এ পথে আসতে পেরেছি ২০১২ তে। এখন শিখছি। আরো বহু দূর পথ পাড়ি দিতে হবে জানি। অনন্তের জীবনের পাথেয় কুড়োতে বড্ড দেরী করে ফেলা একজন দূর্ভাগা হিসেবে নয়, বাঁচতে চাই সোনালি দিন গড়ার প্রত্যয়ে। ক্ষণিকের বালুবেলায় যে কটা মুক্তো কুড়োতে পারি সেই তো আমার লাভের খাতার শব্দমালা। হাঁটার পথে একটা দুটো মুক্তোর কথা, উপলব্ধির কথা লিখবো বলে এখানে পতাকা পুঁতেছি। আমি থাকবোনা একদিন। আমার খুঁজে পাওয়া কিছু মুক্তো হয়তো থেকে যাবে জন্ম থেকে জন্মান্তরে। হয়তো হবে কারো আলোর মশাল। আর সে আগুন ছড়িয়ে যাবে সবখানে।
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s