এলার্ম! এলার্ম!!

আপনি জন্মসূত্রে হিন্দু বা মুসলিম যাই হোন না কেন, আপনাকেই বলছি। কোন ভনিতা ছাড়াই। প্লিইইইজ। মন দিয়ে শুনুন। খুব খেয়াল করে শুনুন। ইনাফ ইজ ইনাফ। আর কত?

.

ইয়েস। এটা সায়েন্স ফিকশানের চাইতে বেশি কিছু। খুব খুব বেশি কিছু। হ্যাঁ, আমাকে, আপনাকে ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। একেবারে এই দুনিয়ার মেজর ঘটনাগুলো থেকে, পরের লাইফের বড় বড় সব, একদম স—-ব ঘটনা পুরো ডিটেইলসে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

.

কেউ মূর্তির, কেউবা আবার চাকরীর, কেউ টাকার, সুখের, সম্পদের, ডিগ্রীর, খ্যাতির, সম্মানের, সৌন্দর্যের, আর কেউ নিজের খায়েশের-প্রবৃত্তির পূজা করছেন। হ্যাঁ,হ্যাঁ, পূজাই করছেন আপনি। পুরাটা লাইফ উৎসর্গ করে দিচ্ছেন এগুলোর জন্যে। আপনি জানেন এগুলো। হ্যাঁ, আপনাকে জানানো হইসে সব। আপনি জানেন যে ফাইনালি, অনন্তের লাইফে এইগুলো কাজে আসবেনা, তবুও আপনি এগুলোর পিছনেই ছুটছেন তো ছুটছেনই।

WHYYYYYY?

.

উত্তর দেন।

নিজেকেই উত্তর দেন।

.

হ্যাঁ, আপনাকে পাওয়ার দেয়া হইসে, মেধা দেয়া হইসে। আপনি পড়তে জানেন, লিখতে জানেন, বুঝেন ভালো, আঁকেন ভালো, গণিতে ভালো, আপনার গলাও ভালো। গুড! ভেরি গুড! আপনি ভুলে যাচ্ছেন কেন যে আপনাকে দেয়া এই প্রত্যেকটা নি’আমাতের হিসেব দিতে হবে? দিতে হবেই। আপনি কিভাবে এইগুলা দিয়ে নিজের আরামের পূজা করসেন, আপনার আসল মিশন ভুলে, সেইটা জিজ্ঞেস করা হবে। পাইপাই করে হিসেব নেয়া হবে প্রত্যেকটা দায়িত্বের। মনে আছেতো?

.

আল্লাহ একজনই।

আবারো বলছি, আল্লাহই একমাত্র উপাস্য, পূজনীয়, আর কেউ না, কেউ না।

উপাস্য একমাত্র তিনিই।

মূর্তির, চাকরীর, টাকার, সুখের, সম্পদের, ডিগ্রীর, খ্যাতির, সম্মানের, সৌন্দর্যের, আর নিজের খায়েশের-প্রবৃত্তির পূজা আপনার করার কথা না, এই গোলামী করার কথা না আপনার। আপনি মানুষ। বিবেক আর বুদ্ধিটা খাটান। প্লিইইইইজ। আপনার এই সব গোলামী থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র এক আল্লাহর গোলামী করার কথা। এইটাই আপনার লাইফের মিশন। এজন্যেই এই দুনিয়ায় আপনাকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হইসে। আমি মনে করিয়ে দিলাম আবারো। কিভাবে করবেন গোলামী? কিভাবে আপনার মিশন কমপ্লিট করবেন? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখায়ে গেসেন সব। উনাকে ফলো করলেই সব জেনে যাবেন। সব করা হয়ে যাবে।

.

আপনাকে সব জানায়ে দেয়ার পরও, সব জেনেও আপনি বারবার ডিসট্রাক্টেড হয়ে যাচ্ছেন।

কেন?

সেটাও আপনাকে জানায়ে দেয়া হইসে।

শাইত্বান আপনার প্রকাশ্য শত্রু, এটা আপনাকে আল্লাহ পইপই করে বলে দিসেন, ভুলতে মানা করসেন।

শাইত্বান আপনাকে এই পরীক্ষায় পাশ করতে দিতে চায় না, তাই আপনাকে আক্রমণ করতেই থাকবে একটানা, সেটাও জানায়ে দিসেন।

সে কনস্টেন্টলি আপনাকে এই দুনিয়ার চাকচিক্য আর নানান প্রাপ্তির লোভ দেখায়ে আপনাকে আপনার আসল মিশন ভুলায়ে দিবে, সেটাও মনে করায়ে দিসেন।

এই দুনিয়াটা একটা ভ্রান্তি, প্রতারণা। এইটাও বলে দিসেন।

এইটা এক্সাম হল, যার রেজাল্ট ভোগ করবেন অনন্তকাল ধরে।

বলে দিসেন এইটাও।

world life

কি করলে গোল্ডেন এ+ পাবেন, কি করলে ডাবল জিরো কপালে জুটবে তাও বলে দিসেন। পরিস্কার সব জানায়ে দিসেন। পরীক্ষার প্রশ্নগুলাও বলে দিসেন, সঠিক উত্তরও জানায়ে দিসেন। দিসেন না? তারপরো আপনি অন্য কিছুর পূজা করে কেন নিজেকে ফেইল করাচ্ছেন? কেন দুনিয়ার প্রাপ্তির দিকে দৌড়াতে গিয়ে বারবার, বারবার, বারবার রেজাল্ট কার্ডের অনন্ত ফলাফলের কথা ভুলে যাচ্ছেন? কেন? কেন???? অনন্ত শব্দটার মানে কি আপনি বুঝেন না? আপনার মাথায় ঢুকেনা? হ্যাঁ? আর কতবার বললে,আর কতজনের মৃত্যু দেখার পর বুঝবেন যে আপনিও এভাবেই হঠাৎ চলে যাবেন। আর কত কবরস্থান চোখে পড়লে আপনি চোখ মেলবেন? নিজের চোখে আর কয়জনের চলে যাওয়া দেখে নিজের চলে যাওয়াটার কথা মনে পড়বে? কবে ব্যাগ গুছানো শুরু করবেন? কবে? হঠাৎ ই যাওয়ার সময় হবে, কেন ভুলে যান বারবার। কেন??

.

বুক কাঁপে না?

সেই কাঁপুনি কেন ভুলে যান?

.

আপনার বুকের গভীরে আপনিতো সত্যটা জানেন।

তবু মানছেন না কেন? কেন বদলাচ্ছেন না?

.

মনে রাখবেন, এখনই যদি না বদলান, এখনই যদি লজ্জিত হয়ে, অনুতপ্ত হয়ে, তাওবা করে ফিরতে না পারেন, প্রতিটা ভুলের সাথে সাথেই যদি তাওবা করে, মাফ চেয়ে না ফিরেন, হয়তো ভুলের উপরে থাকা অবস্থাতেই আপনার মৃত্যু হবে। আমার অনেক  আত্মীয়কে, বন্ধুকে আমি দেখেছি ভুলের উপর থাকতে থাকতে ঐ অবস্থায়ই সে বিদায় নিয়েছে। আমাদের অবস্থাও কি ঐরকমই হবে? ওরাও অনেক মৃত্যু দেখেছিলো, অনেক ওয়ার্নিং শুনেছিলো। পাত্তা দেয়নি। যা করছিলো, থামায়নি। থমকে গিয়ে ভাবেনি, কি করছি আমি? তারপর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে নিজেকে না বদলিয়ে হঠাৎ ডাকে বিদায় নিয়েছে।

.

আমিও কি এভাবেই অবহেলায় জীবন কাঁটাতে কাঁটাতেই বিদায় নেবো?

নিজেকে এই প্রশ্ন করি আসুন।

.

হয়তো সব জেনে, সব বুঝেও আপনি আর কখনোই বদলাবেন না।

সুন্দর আর আরামের রাস্তাটা জাহান্নামের দিকে গেছে জেনেও হয়তো আপনি ঐ পথই পছন্দ করছেন, হয়তো ঐখানে গিয়েই থামবেন।

.

অথচ, আপনার নেয়া প্রতিটা নিঃশ্বাস আপনাকে এখনো বলেই যাচ্ছে যে এখনো তাওবার রাস্তা খোলা। এই মূহুর্তে যে নিঃশ্বাসটা নিলেন, সেটা আপনাকে এইমাত্র এটাইতো বলে দিলো যে, এই মূহুর্তটাও আপনাকে ফিরে আসার জন্যেই দেয়া হয়েছিলো। বলে দিলো যে, ফিরে আসার রাস্তা খোলা এখনো।

.

খোলা জান্নাতের রাস্তা আর দরজাগুলো।

এখনো খোলা।

.

আরো একটা মূহুর্ত কিন্তু চলে গেলো।


রাত ৩টা ৩৬ মিনিট।

যুলহিজ্জার ২০ তারিখ,

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরাতের ১৪৩৫ বছর পর।

Advertisements

About মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

আমি মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর। একাডেমিক পরিচয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন বায়োটেকনোলজিস্ট। আগ্রহ বিজ্ঞানে এবং গবেষণায়। তারচেয়েও বেশি পড়ানোয়। নৈতিক এবং আদর্শিক জীবনে একজন মনেপ্রাণে মুসলিম। নাস্তিকতা ছেড়ে আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতা’আলার অশেষ করুণা আর দয়ায় ইসলামের আলো চিনে এ পথে আসতে পেরেছি ২০১২ তে। এখন শিখছি। আরো বহু দূর পথ পাড়ি দিতে হবে জানি। অনন্তের জীবনের পাথেয় কুড়োতে বড্ড দেরী করে ফেলা একজন দূর্ভাগা হিসেবে নয়, বাঁচতে চাই সোনালি দিন গড়ার প্রত্যয়ে। ক্ষণিকের বালুবেলায় যে কটা মুক্তো কুড়োতে পারি সেই তো আমার লাভের খাতার শব্দমালা। হাঁটার পথে একটা দুটো মুক্তোর কথা, উপলব্ধির কথা লিখবো বলে এখানে পতাকা পুঁতেছি। আমি থাকবোনা একদিন। আমার খুঁজে পাওয়া কিছু মুক্তো হয়তো থেকে যাবে জন্ম থেকে জন্মান্তরে। হয়তো হবে কারো আলোর মশাল। আর সে আগুন ছড়িয়ে যাবে সবখানে।
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

One Response to এলার্ম! এলার্ম!!

  1. wahid says:

    মাশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন।
    আমার জন্য দুয়া করবেন। পারলে আমার ইমেইলে একটা ইমেইল করবেন।
    আপনার লিখাগুলো যথাসম্ভব সবার কাছে পৌছে দেয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ যাতে আমিও কিছুটা দায়মুক্ত হতে পারি আর-রাহমানের কাছে।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s