দুই ভাগ আখিরাত

১.

একজন অবিশ্বাসী দুনিয়ার পিছনে ঘুরে মরে, দুনিয়া চায়। সে তাই পায়, যা তার জন্যে তার তাক্বদীরে বরাদ্দ ছিলো। পাশাপাশি আখিরাতের সবকিছু হারায়। কারণ, তার সব ভালো কাজের পুরস্কার তাকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়া হয়। আখিরাতে আর কিছুই থাকে না, অনন্ত শাস্তি ছাড়া।

.

অন্যদিকে, একজন বিশ্বাসীর ক্ষেত্রে সবকিছুই কি অদ্ভুত সুন্দর! সে আখিরাত চায় বেশি বেশি, আর দুনিয়া হতে যা তাঁর জন্যে কল্যাণময় করে রেখেছেন আল্লাহ, শুধু তাই চায় আল্লাহর কাছে ধৈর্য্যের সাথে, যদিও তাতে তাঁর জন্যে কষ্ট থাকে।

.

বিনিময়ে সে কি পায়?

আল্লাহ তাঁকে কি দিয়ে পুরস্কৃত করেন?

সে দুনিয়াতে যা তাঁর জন্যে বেস্ট আল্লাহর পক্ষ থেকে তা পেয়ে যায়, আখিরাতেও যা কিছু বেস্ট তা পায় এবং অনন্তের শাস্তি হতেও নাজাত পায়। সুবহানাল্লাহ!

.

২.

আমরা কি করতে পারি?

.

নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর জাতিকে কি বলেছিলেন সেখান থেকে আল্লাহ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন কুরআনের সুরা নূহ এ। নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর জাতির উদ্দেশ্যে বলেছিলেনঃ

.

“তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও ৷ নিঃসন্দেহে তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল৷”

.

তো ক্ষমা চাইলে কি হবে?

“নিঃসন্দেহে তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল” বলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন আমাদের প্রতিপালক এতই ক্ষমাশীল যে তিনি অবশ্যই ক্ষমা করে দেবেন। এইটুকু বলেই কিন্তু তিনি থেমে যাননি। ক্ষমা চাইলে ক্ষমা তো পাবোই,পাশাপাশি সুপার-বোনাস হিসেবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অসীম রাহমাত থেকে আমরা আরো কি কি পাবো তাও বলেছেন সাথে সাথে। বলেছেনঃ

.

“তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষাবেন৷

সম্পদ

ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে সাহায্য করবেন,

তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন

আর নদী-নালা প্রবাহিত করে দিবেন৷”

.

আল্লাহু আকবার 😀

.

৩.

আমরা এই দুইটা দু’আ সবসময় করতে পারি। সালাতের শেষে, সিজদাতে, হাঁটতে, চলতে, ঘুরতে, ফিরতে,মনে মনে আল্লাহর সাথে কথা বলতে পারি। আল্লাহকে সবসময় বলতে পারিঃ

“আল্লাহুম্মাগফিরলী” (ও আল্লাহ, আমাকে মাফ করে দাও)

“আল্লাহুম্মাগফিরলী” (ও আল্লাহ, আমাকে মাফ করে দাও)

“আল্লাহুম্মাগফিরলী” (ও আল্লাহ, আমাকে মাফ করে দাও)

.

এভাবে বলতে থাকতে পারি।

.

আরেকটা দু’আ করতে পারি, যেটা আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি করতেনঃ

“রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও (হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দাও)

ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ (এবং আখেরাতেও কল্যাণ দাও)

ওয়াক্বিনা ‘আজাবান্নার (এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদের বাঁচাও)”

.

৪.

শেষের দু’আটা আমাদের প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবসময় করতেন, বেশি বেশি পড়তেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র আল-কুরআনের সুরা বাকারার ২০১ নং আয়াতে এই দু’আটি উল্লেখ করেছেন। এই দু’আতে একটা অসাধারণ শিক্ষণীয় ব্যাপার আছে। খুবই ইন্টারেস্টিং!

.

ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন, আমি আয়াতটাকে তিনভাগে ভেঙ্গে লিখেছি।

.

প্রথমভাগে, আমরা আল্লাহর কাছে দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করছি। কেমন কল্যাণ? কেমন দুনিয়া? আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্যে দুনিয়ার মাঝে যা বেস্ট শুধুমাত্র তাই চাইছি। এবং সেই বেস্ট আল্লাহই ঠিক করে দেবেন, যেহেতু আমরা জানি না কোনটা আমাদের জন্যে ফাইনালি কল্যাণ বয়ে আনবে।

.

দ্বিতীয়ভাগে, আমরা আল্লাহর কাছে আলখিরাতের কল্যাণ কামনা করছি। কেমন কল্যাণ? কেমন আখিরাত? বেস্ট আখিরাত, সবচেয়ে অসাধারণ আখিরাতের জীবন চাইছি।

.

তৃতীয়ভাগে, আমরা আল্লাহর কাছে আল্লাহর আগুনের ভয়ংকর ‘আজাব হতে মুক্তি চাইছি। বাঁচতে চাইছি। এক সেকেন্ডের জন্যেও যেন সেই শাস্তি আমাদেরকে না ছুঁয়ে দেয় এটাই আমাদের কামনা। আমরা যেন এক সেকেন্ডও ঐ আগুনে থাকার কথা চিন্তা না করি। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন।

.

শিক্ষনীয় ব্যাপার এটাই যে, দু’আর তিনটা ভাগের মাঝে একটা ভাগ শুধু আমরা দুনিয়ার জন্যে বরাদ্দ রাখছি। আর আখিরাত এত এত এতই ইম্পরট্যান্ট যে দু’আর দুইটা ভাগ আমরা আখিরাতের জন্যে বরাদ্দ রাখছি। অর্থাৎ একশভাগের মাঝে ৩৩.৩৩ ভাগ শুধু দুনিয়ার কল্যাণের জন্যে, আর ৬৬.৬৬ ভাগ আমাদের মনোযোগ থাকবে অনন্ত আখিরাতের দিকে, আমাদের আসল বাসার দিকে, যেখান থেকে আমরা এসেছি,যেখানে আমাদেরকে চিরকাল থাকতে হবে।

.

আমি যেন না ভুলে যাই, আমি এখানে একটা মিশন নিয়ে এসেছি, আরাম করতে নয়।

আরাম করতে হয় বাসায় গিয়ে। আয়েশ করতে হয় বাসায় গিয়ে।

আমার বাসা এইখানে না।

Advertisements

About মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর

আমি মুহাম্মাদ তোয়াহা আকবর। একাডেমিক পরিচয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন বায়োটেকনোলজিস্ট। আগ্রহ বিজ্ঞানে এবং গবেষণায়। তারচেয়েও বেশি পড়ানোয়। নৈতিক এবং আদর্শিক জীবনে একজন মনেপ্রাণে মুসলিম। নাস্তিকতা ছেড়ে আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতা’আলার অশেষ করুণা আর দয়ায় ইসলামের আলো চিনে এ পথে আসতে পেরেছি ২০১২ তে। এখন শিখছি। আরো বহু দূর পথ পাড়ি দিতে হবে জানি। অনন্তের জীবনের পাথেয় কুড়োতে বড্ড দেরী করে ফেলা একজন দূর্ভাগা হিসেবে নয়, বাঁচতে চাই সোনালি দিন গড়ার প্রত্যয়ে। ক্ষণিকের বালুবেলায় যে কটা মুক্তো কুড়োতে পারি সেই তো আমার লাভের খাতার শব্দমালা। হাঁটার পথে একটা দুটো মুক্তোর কথা, উপলব্ধির কথা লিখবো বলে এখানে পতাকা পুঁতেছি। আমি থাকবোনা একদিন। আমার খুঁজে পাওয়া কিছু মুক্তো হয়তো থেকে যাবে জন্ম থেকে জন্মান্তরে। হয়তো হবে কারো আলোর মশাল। আর সে আগুন ছড়িয়ে যাবে সবখানে।
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s